মুফতি আলাউদ্দিন জামালী
আধুনিক জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ বলে মনে হলেও, কিছু কাজ আমাদের অজান্তে গুরুতর পাপের কারণ হতে পারে। এইসব কাজগুলো সমাজের চোখে স্বাভাবিক, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা মারাত্মক গুনাহ।
অনলাইনে গিবত ও অপবাদ:
কারো অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা, ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো বা অনলাইনে ট্রল করা এসবই গিবত ও অপবাদের অংশ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯ : ১২)
সময় নষ্ট করা (অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি)
সময় আল্লাহর দেওয়া আমানত। মূল্যবান সময়কে উদ্দেশ্যহীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনে নষ্ট করা আমানতের খেয়ানত। এটি আখিরাতের প্রস্তুতির পথে বাধা।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ "দুটি নিয়ামত এমন আছে, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হলো: স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।" (সহীহ বুখারী : ৬৪১২)
পর্দায় উদাসীনতা:
অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছবি বা ভিডিওতে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করাকে অনেকেই আধুনিক স্বাধীনতা মনে করা। এটি মুমিন নর-নারীর জন্য আল্লাহ নির্দেশিত দৃষ্টি সংযত রাখা এবং শালীনতা বজায় রাখার আদেশের লঙ্ঘন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
"মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।" (সূরা আন-নূর ২৪ : ৩০)
লোক দেখানো আমল (রিয়া):
ভালো কাজ বা দানশীলতার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের প্রশংসা বা বাহবা পাওয়া, তবে তা 'রিয়া' বা লোক দেখানো কাজ। এটি এক প্রকার গোপন পাপ, যা আমলের সওয়াব নষ্ট করে দেয়।
রাসূল ﷺ বলেনঃ "আমি তোমাদের জন্য যা ভয় করি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করি ছোট শিরককে।" তিনি বললেন, "তা হলো রিয়া (লোক দেখানো আমল)।" (সুনান ইবনু মাজাহ : ৪২০৪)
দ্বীনের বিষয়ে ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্য:
ইসলামের কোনো বিধান (যেমন: পর্দা, দাড়ি) বা আল্লাহর নির্দেশিত কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা তাচ্ছিল্যসূচক মন্তব্য করা মারাত্মক গুনাহ। আধুনিক সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া বা আড্ডায় এসব চলে আসে, কিন্তু এটি আল্লাহ,
তাঁর আয়াতসমূহ ও রাসূলের (সা.) প্রতি অসম্মানজনক যা ইমান বিধ্বংসী হতে পারে।
হেড অ্যারাবিক পেন্টাগন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, টাঙ্গাইল
Mytv Online